বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালানের আট চক্র

দেশের ৬টি জেলার সীমান্তে ৮ চক্র সোনা চোরাচালানে জড়িত। চক্রটি দুবাইসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে আকাশ পথে সোনা এনে তা পাচার করছে পার্শ্ববর্তী দেশে। এ চক্রের সদস্যরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভারত থেকে আমদানিকারক বা কেউ খুচরা পণ্যের ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই কারবার করে যাচ্ছে। ৬টি সীমান্তে ৮ টি চক্রে প্রায় ১৯০ জন সদস্য সক্রিয়। অনেকেই বিজিবি’র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এই চক্রকে দমাতে বাংলাদেশের বিজিবি ও ভারতের বিএসএফ একযোগে কাজ করছে। আকাশ পথে নজরদারি বেড়ে যাওয়ার কারণে চোরাকারবারিরা এখন সীমান্ত এলাকায় সোনা পাচার বাড়িয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, দেশে যখন সোনার দাম পড়তি থাকে তখন চক্রটি সোনা পাচার বাড়িয়ে দেয়। কেউ কেউ সোনা মজুত রাখে।
ভারতে যখন আবার সোনার দাম বেড়ে যায় তখন তারা সোনা পাচারের গতি বাড়ায়।
এ বিষয়ে বিজিবি’র পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান মানবজমিনকে জানান, ‘সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবি কাজ করছে।’
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সোনা পাচার বেড়ে গেছে। ২০১৮ সালে বিজিবি সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯৫ কেজি ৭৮৯ গ্রাম সোনা জব্দ করে। এ সময় ৩১ জনকে আটক করা হয়। ২০১৯ সালের ৫৪ কেজি ২৩৪ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয় ৩৫ জনকে। ২০২০ সালে ৮৭ কেজি ৯২৯ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। তখন আটক করা হয়েছিল ৪১ জনকে। ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় সোনা জব্দ করা হয় ১৬ কেজি ৮৭৮ গ্রাম। আটক করা হয় ১৫ জনকে। হিসাবে দেখা গেছে, গত সাড়ে ৩ বছরে সীমান্ত এলাকায় সোনা জব্দ হয়েছে ৩৫৪ কেজি ৮৩ গ্রাম। আর পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে ১২২ জন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকাগুলোতে সোনা পাচার বেড়ে যাওয়ায় টহলের পরিমাণ বাড়িয়েছে বিজিবি।
সূত্র জানায়, চোরাকারবারিরা অভিনব পন্থায় সোনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার করছে। তারা কাঁচা তরকারি, জর্দার কোটাসহ নানান পণ্যের মধ্যে দিয়ে পাচার করছে সোনা। ওই পণ্যগুলো তল্লাশি করতে হিমশিম পেতে হয় বিজিবি সদস্যদের।
যে ৬টি সীমান্ত এলাকা দিয়ে সোনা পাচার হচ্ছে সেই এলাকাগুলো হচ্ছে, লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তের সফিপুর, যশোর জেলার বেনাপোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর, নওগাঁর সাপাহারের কুরমুডাঙ্গা, দিনাজপুর সদর উপজেলার খানপুর ও ফেনী জেলার ফুলগাজীর তারাকুচা সীমান্ত। লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তের সফিপুরের শহীদ ও তারেকের নেতৃত্বে সোনা পাচার হচ্ছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে আলী হোসেন নামে এক লবণ ব্যবসায়ী সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য পেয়েছে।
সূত্র জানায়, নওগাঁর সাপাহারের কুরমুডাঙ্গায় শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করে। দিনাজপুর সদর উপজেলার খানপুর সীমান্তে সোহাগ নামে এক যুবক সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। আর ফেনী জেলার ফুলগাজীর তারাকুচা সীমান্ত এলাকায় রফিক চক্র সোনা পাচার করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কারণে তারা ভিন্ন সীমান্তের স্পট চিহ্নিত করার চেষ্টা চালালেও দেশের সব সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি গড়ে তুলেছে বিজিবি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com